Translate

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৫

"ভূমিকম্প" ইহুদী নাসারাদের এক ষড়যন্ত্রের নাম।



কুরআনে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেছেন,

আমি পৃথিবীতে ভারী বোঝা রেখে দিয়েছি যাতে তাদেরকে নিয়ে পৃথিবী ঝুঁকে না পড়ে এবং তাতে প্রশস্ত পথ রেখেছি, যাতে তারা পথ প্রাপ্ত হয় (২১:৩১)

তিনি খুঁটি ব্যতীত আকাশমন্ডলী সৃষ্টি করেছেন; তোমরা তা দেখছতিনি পৃথিবীতে স্থাপন করেছেন পর্বতমালা, যাতে পৃথিবী তোমাদেরকে নিয়ে ঢলে না পড়ে (৩১:১০)

এবং তিনি পৃথিবীর উপর বোঝা রেখেছেন যে, কখনো যেন তা তোমাদেরকে নিয়ে হেলে-দুলে না পড়ে এবং নদী ও পথ তৈরী করেছেন, যাতে তোমরা পথ প্রদর্শিত হও (১৬:১৫)

"বল তো কে পৃথিবীকে বাসোপযোগী করেছেন এবং তার মাঝে মাঝে নদ-নদী প্রবাহিত করেছেন এবং তাকে স্থিত রাখার জন্যে পর্বত স্থাপন করেছেন...." (২৭:৬১)

উপরের আয়াতগুলো থেকে বুঝা যাচ্ছে আল্লাহ পৃথিবীতে পাহাড় পর্বত এজন্য সৃষ্টি করেছেন যেন পৃথিবী কোন এক দিকে কাঁত হয়ে পড়ে না যায়এমনকি পৃথিবী যেন কেঁপে না উঠে অর্থাৎ ভূমিকম্প যেন না হয় সেজন্যই পৃথিবীতে পাহাড়-পর্বত স্থাপন করে দিয়েছেন মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন
সুতরাং একথা চরম সত্য যে পৃথিবীতে পাহাড় পর্বত স্থাপনের মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পৃথিবীকে স্থির রেখেছেন যেন পৃথিবী কোন এক দিকে কাঁত হয়ে না পড়ে যায় এবং না কেঁপে উঠে অর্থাৎ ভূমিকম্প যেন না হয়আল্লাহ পৃথিবীকে স্থির রাখার জন্য পাহাড় পর্বত স্থাপন করলেন এবং পৃথিবীর হেলে পড়া এবং কেঁপে উঠা থেমে গেল
আর আমরা লক্ষ করেছি যে পৃথিবী কোন দিকে কাঁত হয়ে পড়ে যায় নাঅর্থাৎ কুরআনের কথা সত্যকারণ কুরআনে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ পৃথিবীতে পাহাড় পর্বত এজন্য সৃষ্টি করেছেন যেন পৃথিবী কোন দিকে কাঁত হয়ে পড়ে না যায়আর বাস্তবেও সেরকমটিই হয়; অর্থাৎ পৃথিবী কোন এক দিকে কাঁত হয়ে পড়ে যায় না
অর্থাৎ কুরআনের কথা সত্যআর তাই কুরআন সত্য
আর সেই সত্য কুরআন যখন বলে যে, পৃথিবীতে ভূমিকম্প যাতে না হয় সেজন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পৃথিবীতে পাহাড় পর্বত স্থাপন করেছেন তবে সেটা অবশ্যই সত্য হবেকারণ মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কখনই মিথ্যে কথা বলতে পারেন না

সুতরাং কুরআন অনুযায়ী আল্লাহ পৃথিবীতে পাহাড় পর্বত নাযিল করেছেন আর সাথে সাথে সব ধরনের হেলে দুলে উঠা এবং কেঁপে উঠা অর্থাৎ ভূমিকম্প হওয়া বন্ধ হয়ে গেছেঅর্থাৎ পাহাড় পর্বত সৃষ্টি করার পরে পৃথিবীতে আর কোন ভূমিকম্প হয়নি মানব ইতিহাসে

অর্থাৎ কুরআন অনুযায়ী, যেহেতু পৃথিবীতে পাহাড় পর্বত আছে (যেগুলোর চাক্ষুস প্রমাণ আমরা পেয়েছি) সুতরাং পৃথিবীতে কোন ভূমিকম্প হয়নি এবং কখনই হয় নাকুরআন অনুযায়ী যদি পৃথিবীতে ভূমিকম্প হয় তবে কুরআন এবং আল্লাহ মিথ্যে হয়ে যায় (নাউযুবিল্লাহ)
কিন্তু আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কখনই মিথ্যে হতে পারেন নাসুতরাং পৃথিবীতে কোন ভূমিকম্প হয় না এটাকেই সত্য বলে ধরে নিতে হবেতা না হলে কুরআন ও আল্লাহর বিপক্ষে চলে যেতে হবে (আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন)
সুতরাং আমাদের বিশ্বাস করতে হবে (অন্ধভাবে) যে, পৃথিবীতে যেহেতু অনেক অনেক পাহাড় পর্বত আছে তাই পৃথিবীতে কোন ধরনের ভূমিকম্প হয় না, কখনও হয়নি

তাই আমরা ধরে নিতে পারে ভূমিকম্পের যেসব খবর আমরা মিডিয়াতে পাই সেগুলো সের্ফ্ ইহুদী নাসারাদের ষড়যন্ত্র
সুতরাং একজন মুমিন মুসলমান হয়ে আমার আপনার একনিষ্ট কর্তব্য এসব ইহুদী নাসারাদের ষড়যন্ত্রমুলক ভূমিকম্পের খবরগুলোকে বিনা বাক্য ব্যয়ে মিথ্যে বলে অবিশ্বাস করা
প্রতিটি মুমিন মুসলমানদের প্রধান দায়িত্ব কুরআন এবং আল্লাহ সত্যি এই বিশ্বাসে অটুট থাকাআর তাই যখন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কুরআনে বলবেন যে, পৃথিবীতে পাহাড় পর্বত সৃষ্টির মাধ্যমে পৃথিবীতে ভূমিকম্প বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, তখন আমাদের মুমিন মুসলমানদের প্রধান দায়িত্ব হলো এটা বিশ্বাস করা যে পৃথিবীতে কোন ধরণের ভূমিকম্পই হয় না
এসব ভুমিকম্পের খবর ইহুদী নাসারাদের ষড়যন্ত্র মাত্র

যেহেতু প্রতিটা মুমিন মুসলমানদের দায়িত্ব চোখ বন্ধ করে কুরআন ও আল্লাহ মহার রাব্বুল আলামিনের কথা বিশ্বাস করা, তাই কুরআনের কথাকেই চরম সত্য বলে অন্ধের মতো বিশ্বাস করতে হবেআর তাই কুরআন যেহেতু বলেছে পৃথিবীতে পাহাড় পর্বত স্থাপনের মাধ্যমে পৃথিবীতে সব ধরনের ভূমিকম্প বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে তাই আমরা বিশ্বাস করবো না যে পৃথিবীতে কোন ধরনের কম্পন বা ভুমিকম্প হয়
কুরআন যেহেতু বলেছে পাহাড় পর্বত স্থাপনের মাধ্যমে ভুমিকম্প বন্ধ হয়ে গেছে অর্থাৎ ভূমিকম্প হয়নি, হয় না এবং হবেও না, আর তাই আমরা পৃথিবীতে যে ভূমিকম্পের খবরগুলো পাই মিডিয়ার মাধ্যমে সেগুলো একদম মিথ্যে এবং বানুয়াটএগুলো ইহুদি নাসারারা তৈরী করেছে কুরআন ও আল্লাহকে মিথ্যে প্রমাণ করার জন্যপ্রকৃতপক্ষে পৃথিবীতে কোন ভূমিকম্প হয়নি এবং হবেও না কখনও (যেহেতু আল্লাহ বলেছেন)

আর তাই আমরা ইহুদী নাসারাদের তৈরী করা ভূমিকম্পের মিথ্যে খবরকে কখনই বিশ্বাস করবো নামিডিয়া যতই বলুক না কেন আমরা কখনই বিশ্বাস করবো না যে পৃথিবীতে ভুমিকম্প হয়

বি.দ্র.: যেহেতু পৃথিবীতে ভুমিকম্প হয় না কারণ কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, তাই নেপালের ভূমিকম্পের সাম্প্রতিক খবরটাও ইহুদী নাসারাদের ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয় (কারণ আল্লাহ ভূল হতে পারে না) যদিও আমরা বাংলদেশে থেকেও একটি কম্পন (পরপর দুই দিন) অনুভব করেছি কিন্তু তবুও এটাকে ইহুদী নাসারাদের ষড়যন্ত্র হিসেবে অন্ধের মতো বিশ্বাস করবোকারণ সেটা না করলে আমাদের আল্লাহর প্রতি ইমান থাকবে নাযেহেতু মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কুরআনে স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন যে, তিনি পৃথিবীতে পাহাড় পর্বত সৃষ্টির মাধ্যমে ভূমিকম্পকে একেবারে বন্ধ করে দিয়েছেন তাই পৃথিবীতে কোন ধরনের ভূমিকম্পই হয় না বলেই আমাদের ইমানী বিশ্বাস (অন্ধবিশ্বাস) হওয়া উচিৎ  
মাঝে মাঝে যে ভূ-কম্পন আমরা অনুভব করি সেগুলো ইহুদী নাসারাদের কৃতিম ভাবে তৈরী করা কম্পন হিসেবেই আমাদের ধরে নেওয়া ইমানী দায়িত্ব


বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০১৫

সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের গাণিতিক বিশ্লেষণ।



আমরা জানি সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব টিকে আছে নানা অলৌকিক ঘটনা, জাদুমন্ত্রের কাহিনী (অর্থাৎ পৌরানিক কাহিনী) এবং জ্বীন-ভুত, ফেরেশতা-শয়তান ইত্যাদি চরিত্রের উপর নির্ভর করে

সুতরাং এ থেকে আমরা পাই,

সৃষ্টিকর্তা = অলৌকিকতা × জাদুমন্ত্র × (ফেরেশতা + শয়তান + জ্বীন-ভুত ইত্যাদি) ..................১ নং সমীকরণ

আমরা জানি পৃথিবীতে কোন অলৌকিকতার স্থান নেইঅর্থাৎ অলৌকিকতা = শুন্য
জাদুমন্ত্র বলে কিছু নেই মানে জাদুমন্ত্রের কোন কার্যকারিতা নেইঅর্থাৎ জাদুমন্ত্র = শুন্য

এবং আমরা জানি,
জ্বীন-ভুত, শয়তান-ফেরেশতা এগুলো হলো মানুষের কুসংস্কার মাত্রবাস্তবে এদের কোন অস্তিত্ব নেই
সুতরাং, (ফেরেশতা + শয়তান + জ্বীন-ভুত ইত্যাদি)= কুসংস্কার

এই মান ১ নং সমীকরণে বসিয়ে পাই,
সৃষ্টিকর্তা = ০ × × কুসংস্কার
অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তা = ০ (শুন্য) ........(আমরা জানি কোন কিছুকে শুন্য দিয়ে গুন করলে মান সব সময়ই শুন্য হয়।)
অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তা বলে কিছু নেই

আবার আমরা জানি, সৃষ্টিকর্তার ধারণার ভিত্তি হলো, নানা অলৌকিক ঘটনা, জাদুমন্ত্রের কাহিনী (অর্থাৎ পৌরানিক কাহিনী) এবং জ্বীন-ভুত, ফেরেশতা-শয়তান ইত্যাদি চরিত্রের সমষ্টি

সুতরাং এ থেকে আমরা পাই,

সৃষ্টিকর্তা = অলৌকিকতা + জাদুমন্ত্র + (ফেরেশতা + শয়তান + জ্বীন-ভুত ইত্যাদি) ..................২ নং সমীকরণ

আমরা আগেই জেনেছি যে,
পৃথিবীতে অলৌকিকতা, জাদুমন্ত্র বলে কিছু নেই; অর্থাৎ অলৌকিকতা = শুন্য এবং জাদুমন্ত্র = শুন্য

আবার ফেরেশতা, শয়তান এবং জ্বীন-ভূত ইত্যাদি হলো মানুষের কল্পনা যার বাস্তব কোন অস্তিত্ব নেই
অর্থাৎ (ফেরেশতা + শয়তান + জ্বীন-ভুত ইত্যাদি)= কুসংস্কার

এই মানগুলো ২ নং সমীকরণে বসিয়ে পাই,

সৃষ্টিকর্তা = ০ + ০ + কুসংস্কার

অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তা = কুসংস্কার

অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তা = শুন্য অথবা কুসংস্কার

সুতরাং সৃষ্টিকর্তার কোন বাস্তব অস্তিত্ব নেই (আছে শুধুই মানুষের কল্পনায়) এবং সৃষ্টিকর্তার ধারণাটা কুসংস্কার ছাড়া আর কিছুই নয়


মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০১৫

একজন মমেনা এবং নাস্তিক ব্লগার ।

মমেনা খুব ধার্মিক মেয়ে। সে বাইরে বের হবার সময় খুব ভালো করে পর্দা করে নেয়। চোখটাও ঢেকে রাখে। সারা জীবনে সে একবারের জন্যও পর পুরুষের সামনে নিজের মুখ দেখায়নি। সে ইউনিভার্সিটিতে পড়ে। আজ পর্যন্ত কোন সহপাঠি ছেলে তার মুখ দেখতে পারেনি। ক্লাসের সবাই ওকে পরহেজগার বলে ডাকে। তাতে অবশ্য ওর খারাপ লাগে না বরং পরহেজগার শুনতে তার ভালোই লাগে। সে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে। সে নিজেকে নিয়ে গর্বই করে। কারণ সে নামাজ পড়ে, সে সব সময় পর্দা করে চলাফেরা করে, তাই সে অন্যদের থেকে উত্তম; এটা ভেবে ওর গর্ব অনুভব হয় নিজেকে নিয়ে।

একদিন ইউনিভার্সিটি থেকে বাসায় ফিরতে দেরী হয়ে গের তার। সে ইউনিভার্সিটির বাসটা মিস করে ফেলে। লোকাল বাসে আসতে তার অনেক দেরী হয়ে যায়। কারণ বাসে এতো ভির ছিল যে ছেলেদের যন্ত্রনায় ও বাসেই উঠতে পারেনি। বাসে কোন সিট ছিল না। সবাই দাড়িয়ে দাড়িয়েই যাচ্ছিল। মেয়েরাও ধাক্কা ধাক্কি করে বাসে ওটে পড়লো। কিন্তু মমেনা বাসে উঠতে পারলো না। তারপক্ষে ছেলেদের সাথে ধাক্কাধাক্কি করে বাসে ওঠা সম্ভব নয়। সে পরহেজগার মেয়ে। তাই সে পরপুরুষের গায়ের সাথে নিজের শরীর স্পর্শ হতে দিতে পারে না। যে করেই হোক ইমান নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।
ফলে সন্ধা লেগে গেল ফাকা বাস পেতে। দেরী না করে উঠে পরলো সে। বাস থেকে নামার পরে ঘরিতে সময় দেখে নিল মমেনা। সাড়ে নয়টা বেজে গেছে। ওর বাসা এখান থেকে হাটা পথে বিশ মিনিটের পথ। রিকসা খুজলো কিন্তু কোন রিকসাই যেতে রাজি হলো না। এদিকে রাতও বেড়ে যাচ্ছে। অগত্যা হাটা শুরু করলো ও। দশ মিনিট হেটে এসেছে। রাস্তার এই অংশটা একদম নিরব। কোন মানুষ জনই নেই এখানে। এখানে ল্যাম্পপোস্টও নষ্ট হয়ে থাকে সব সময়। জায়গাটা ভালো না। এখানে প্রায় প্রায়ই ছিন্তাই হয়। ওরাই হয়তো এখানের ল্যাম্পপোস্টের লাইঠ নষ্ট করে রাখে নিজেদের সুবিধার জন্য। দিনের বেলাতেই এখানে একদম ফাঁকা থাকে। রাত পৌনে দশটায় একেবারে নিরব চারদিক। ভয়ে ভয়ে রাস্তাটা পার হয়ে যাচ্ছে আর মনে মনে প্রার্থনা করছে, হে আল্লাহ এই যাত্রায় আমাকে বাঁচিয়ে দাও। তুমি রহমান রহিম, তুমি ছাড়া আর কেউ নেই আমাকে বাঁচাবার। আমি জানি আমি তোমার প্রিয় বান্দা, আর তাই আমাকে তুমি বাঁচাবেই। আমি তওবা করে বলছি, আমি আর জীবনে কোন দিনই বাস মিস করবো না। হে রহমানুর রাহিম, তুমি সর্ব শক্তিমান। তুমি ছাড়া আর কোনই ইলাহি নেই। এই যাত্রায় তুমি আমাকে বাঁচাও।
মমেনার প্রার্থনা হয়তো কবুল হয়েছে। দুজন লোক সামনে থেকে এগিয়ে আসছে রাস্তা ধরে। ওর দেহে প্রাণ ফিরে আসলো- যাক কেউ তাহলে আছে। সে একা নয়। ভয়টা একটু কমে যায় মমেনার।
লোক দুটো কাছে এসে মমেনার সামনে এসে দাঁড়ালো। রাস্তার পাশে কোনার অন্ধকার থেকে আরো ছয় সাত জন লোক এসে ওকে ঘিরে ফেললো। "আল্লাহ আমাকে বাঁচাও", বলে বিকট চিতকার দিয়ে ওঠলো মমেনা।

সাত দিন পর। হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে মমেনা। মনে অস্বীম ক্রুধ নিয়ে এক পলকে তাকিয়ে আছে অদৃশ্যের দিকে। কার ওপরে এই ক্রুধ বোঝা গেল না। আত্বীয় সজন অনুমান করলো এই ক্রুধটা হয়তো সেই বর্বরদের উপর যারা ওর এই অবস্থা করেছে।
কিন্তু মমেরার ক্রুধ সেই বর্বরদের উপরে নয়। তার ক্রুধ সেই মহান স্বত্ত্বাটির উপর যার এবাদতে সে তার সারাটি জীবন উতসর্গ করেছিল। হয়েছিল পরহেজগার। কিন্তু সেই সৃষ্টিকর্তা যাকে সে সারা জীবন রব বলে প্রার্থনা করে এসেছে সেই রব তাকে রক্ষা করেনি। পনেরো জন নরপিশাচ সারা রাত ধরে ওর উপরে অমানুষিক অত্যাচার করেছে আর ও প্রাণ পণে চিতকার করে সেই রবের কাছে সাহায্য চেয়েছে। কিন্তু কেও তাকে রক্ষা করেনি। কোন দয়াময় প্রভু তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেনি। সে অমানুষিক যন্ত্রনায় কাতরেছে আর সৃষ্টিকর্তার একটু দয়া ভিক্ষা চেয়েছে। কিন্তু সেই দয়াময় তাক নরপশুদের হাত থেকে তাকে উদ্ধার করেনি।
তাই জগতের সমস্ত ক্রুধ সেই রবের উপরে যার ইবাদত করে এসেছে সারাটি জীবন।

এই ঘটনা নিয়ে সারা দেশে অনেক তুলপাড় হয়েছে। সারা দেশে প্রতিবাদ হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন অপরাধিদেরকে শাস্তি দেবার জন্য অনসন করছে। সাধারণ মানুষ সেই অমানুষদের প্রতি ঘৃনা প্রকাশ করেছে।
কিন্তু দেশের একটা নির্দিষ্ট শ্রেণীর মানুষ মুখ বাঁকা করে অনলাইনে নানা উপদেশ নামা ঝেরেছে- "ওই মেয়ে এতো রাতে কেন রাস্তায় বেড়িয়েছিল? পর্দা না করে রাস্তায় বের হলেতো এমনটা হবেই! মেয়েরা থাকবে বাড়ির ভিতরে। ওকে রাস্তায় যেতে বলেছে কে? পর্দা ছাড়া রাত বিরাতে রাস্তায় বের হবে আর এতে ধর্ষিত হবে এটাই তো স্বাভাবিক। ধর্ষকদের যতটা না দোষ তার চেয়ে বেশী দোষ ওই মেয়েটিরই।

এক বছর পর। মমেনা বেঁচে আছে খুব ভালো করে। সে ইউনিভার্সিটিতে যায়। তার একটাই স্বপ্ন গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করা। সে এখন আর পর্দা করে না। বাস মিস করলেও তার ভয় নেই। সে ভিরের মধ্যে বাসে ওঠে যায়। ইউনিভার্সিটার বন্ধু বান্ধবিও অনেক। সারা জীবন যাদেরকে মুনাফেক কাফের বলে গালি দিয়ে এসেছে, সারা জীবন যাদেরকে লাফাংগা শয়তান বলে মনে মনে গালি দিয়ে এসেছে, তারাই তার বিপদের সময় পাশে দাড়িয়েছিল। পাঁচবার আত্বহত্যা করতে চেয়েছিল মমেনা। কিন্তু এই মুনাফেক কাফির গুলোই ওকে বাঁচিয়ে তুলেছে। সান্তনা দিয়ে বাঁচার প্রেরনা যুগিয়েছে। সব সময় সাহায্যের হাতটি বাড়িয়ে দিয়েছে এই লাফাঙ্গা শয়তান গুলোই। সব সময় যাদেককে ও কাছে ঘেষতে দেয়নি আজ ওরাই তার একমাত্র বেঁচে থাকার প্রেরণা। ওরাই আপনজন। ওরাই বেঁচে থাকার অবলম্বন হয়ে থাকা ওর প্রিয় বন্ধু।
এখন মমেনা নামাজ পড়ে না এক বারও। পর্দা করে না কখনই। ভীর ঠেলে বাসে উঠে যায়। তাই বাসায় ফিরতে দেরী হয় না আর। নরপশুদের খপ্পরেও তাকে পরতে হয়নি কখনই।
সে আর পরহেজগার নেই। অনলাইনে সে নিয়মিত লেখালেখি করে। দেশে এখন সে পরিচিত এক নাম। ব্লগার মমেনা। সবাই চেনে ওকে।
কিন্তু একটা শ্রেণীর মানুষ তাকে এখন ঘৃনা করে। তাকে তারা গালাগালি করে। তারা তাকে গালি দেয় নাস্তিক ব্লগার বলে।

সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০১৫

ধার্মিকরা কি ভালো?

ধর্মের নামে এতো এতো মানুষ হত্যা করা হয়েছে মানব ইতিহাসে। এরপরেও কি কোন সুস্থ স্বাভাবিক ভালো এবং মানবিক মানুষ ধর্মকে অনুসরন করতে পারে?
ধর্ম অনুসরন করে স্বার্থপর, ভীতু এবং লোভী মানুষ। তারা নরকের ভয়ে এবং স্বর্গের লোভে ধর্মকর্ম করে। মানুবতার জন্য নয়।

নাস্তিকদের মন্দির বা উপাসনালয়ের থেকে বড় উপাসনালয় পৃথিবীতে আছে কি?


সৃষ্টিকর্তা কি দয়াময়? সৃষ্টিকর্তা কি মহত?

যদি দাবি করি আমি নবী এবং যদি বলি যে, তোমরা আমাকে মান্য কর। যদি আমাকে মান্য কর তবে আমি তোমাদেরকে অনেক টাকা দেবো। আর যদি না মানো তবে কল্লা কেটে ফেলবো, আগুনে পুড়িয়ে ফেলবো, পানিতে ঢুবিয়ে মারবো এবং মারার আগে অমানুষীক যন্ত্র্র্রনা দেবো। তবে কি সেটা খুব ভালো মানুষের মতো কাজ হবে?
এরকম করলে সবাই কিন্তু আমাকে শয়তান-বদমাস বলে গালি দেবে।
ঠিক একই কাজ সৃষ্টিকর্তা করার পরেও মানুষ তাকে দয়াময়, মহত ইত্যাদি বিশেষণে বিশেষায়িত করে থাকে।
এজন্যই আস্তিকরা হলো অদ্ভুত এক প্রাণী।

রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০১৫

ধর্মই যত অধর্মের মূল।

ধর্ম যদি পৃথিবীতে না থাকতো তবে মানুষ আরো অনেক আগেই সভ্য হয়ে যেতো।
ধর্ম আছে বলেই পৃথিবীতে অন্যায় অত্যাচার এখনও টিকে আছে।
ধর্মই যত অধর্মের মূল।

তিন মালুতে দোস্তি।

মুসলমান মালু চুপচাপ বসে ছিল। তার মনটা খুব খারাপ।
এমন সময় হিন্দু মালু আসলো তার কাছে। এসেই অনর্গল কথা শুরু করে দিল। একবার অবশ্য মুসলমান মালুর দিকে তাকিয়ে জিঙ্গের করেছিল, "তোর মন খারাপ কেন"?
কিন্তু উত্তরের আশা করেনি। সে কথা বলেই যাচ্ছে।
অনেকক্ষন পর খ্রিস্টান মালু তাদের কাছে এসে বসলো। সে বসেই কথা বলা শুরু করে দিল। হিন্দু মালু খ্রিস্টান মালুর কাছে পাত্তা না পেয়ে চুপ করে গেল। খ্রিস্টান মালুর বকবক চলতেই থাকলো।
কিছুক্ষন পর মুসলমান মালুর মনটা ভালো হযে গেলো।
"হিন্দু মালু আর খ্রিস্টান মালুটা তার জীবনে না থাকলে জীবনটা পানসে হয়ে যেতো।" মনে মনে ভাবলো মুসলিম মালু।

বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০১৫

সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ত্বের আস্তিকীয় প্রমাণ। সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের সপ্ততত্ত্ব প্রমাণ। পর্ব ২

সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ত্বের আস্তিকীয় প্রমাণ। সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের সপ্ততত্ত্ব প্রমাণ।
১. সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব আছে, এটা একটা সত্য কথা। সুতরাং প্রমানিত হলো সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব আছে।
২. আকাশে কি সুন্দর তারকাগুলো জলজল করে। সৃষ্টিকর্তা না থাকলে কি ওগুলো এমন করে জলতো?
৩. সৃষ্টিকর্তা যদি নাই থাকবে তবে আমরা নি:শ্বাস নেই কিভাবে? অতএব অবশ্যই সৃষ্টিকর্তা আছে।
৪. সৃষ্টিকর্তা বলেছে, সে নাস্তিকদেরকে সৃষ্টি করেছে নরকের শাস্তি দেবার জন্য। আর নাস্তিকরা নরকেই যাবে। অতএব প্রমানিত হলো সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব আছে।
৫. বিড়ালটা পুকুরে পড়ে ঢুবে যাচ্ছিল। তখন একটা লোক বিড়ালটাকে বাঁচালো। যদি সৃষ্টিকর্তা ওই লোকটাকে না পাঠাতো তবে কি বিড়ালটা বাঁচতে পারতো? অতএব অবশ্যই সৃষ্টিকর্তা আছে।
৬. সৃষ্টিকর্তা আমাদে সবাইকে মৃত্যুর পরে আবার বাঁচিয়ে তুলবে পাপ পুণ্যের বিচার করার জন্য। যদি সৃষ্টিকর্তা না থাকতো তবে কে আমাদের পাপ পুন্যের হিসাব নেবে? সুতরাং সৃষ্টিকর্তা অবশ্যই আছে।
৭. সৃষ্টিকর্তাকে আমি গতকাল স্বপ্নে দেখেছি। যদি সৃষ্টিকর্তা নাই থাকবে তবে আমি তাকে স্বপ্নে দেখলাম কিভাবে। অতএব এটা সন্দেহাতিত ভাবে প্রমাণিত হয় যে, সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব আছে।

বি.দ্র.: আস্তিকরা এভাবেই চিন্তা করে অভ্যস্ত। তাতে অবাক হবার কিছু নেই।

ধর্ম বনাম রিলিজিওন (প্রার্থনা ধর্ম)

ধর্ম যখন গুন বা বৈশিষ্ট্য তখন মানবতাই হলো শ্রেষ্ট ধর্ম।
ধর্ম যখন কোন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা তখন নৈতিকতাই হলো শ্রেষ্ট ধর্ম।
প্রার্থনা ধর্ম বা রিলিজিওন-এর কোন মূল্য নেই মানুষের জীবনে।

তুমি আমি দুজনেই মানুষ।

তুমি আমি দুজনেই মানুষ।
হও তুমি হিন্দু বা খ্রিস্টান অথবা মুসলমান,
তুমি আমি দুজনেই মানুষ।
হও তুমি সাদা অথবা কালো, নারী অথবা পুরুষ।
তুমি আমি দুজনেই মানুষ।

ধর্ম বনাম নৈতিকতা - ২

ধর্ম বলে, যা বলি সেটাই করো হোক সেটা ভুল।
নৈতিকতা বলে, যেটা সঠিক সেটাই করো যে যাই বলুক না কেন।
নৈতিকতা আর ধর্ম সম্পূর্ন বিপরীত ব্যাপার।

সবার উপরে মানুষ সত্য।

 সবার উপরে মানুষ সত্য।
মানুষ বই তৈরী করেছে। বই কখনই মানুষ তৈরী করেনি।
মানুষ ধর্ম তৈরী করেছে। ধর্ম মানুষ তৈরী করেনি।
কাল্পনিক সৃষ্টিকর্তাদেরকেও মানুষই সৃষ্টি করেছে। কাল্পনিক ওই সব সৃষ্টিকর্তাগুলো মানুষকে তৈরী করেনি।
তাই সবার উপরে মানুষই সত্য। মানুষগুলো যা তৈরী করেছে সেগুলো নয়।

নাস্তিকদের প্রতীক

সব ধর্মেরই প্রতিক বা সিম্বল আছে। এই সিম্বল বা প্রতীকগুলো দেখে মানুষকে চেনা যায় সে কোন ধর্মের আস্তিক।
তাহলে নাস্তিকদের প্রতীক থাকবে না কেন? নাস্তিকদের প্রতীক বা লগো:

নৈতিকতা বনাম ধর্ম

তোমাকে যেটাই বলা হোক না কেন, যেটা সঠিক এবং ভালো সেটা করাই হল নৈতিকতা।
সঠিক বা ভালো হোক বা না হোক, তোমাকে যা বলা হবে সেটা অন্ধভাবে করাই হলো ধর্ম।

তিন মালুর বন্ধুত্বতা ।

তিন মালুতে খুব ভাব। এক মালু আরেক মালুকে ছাড়া এক মুহুর্তও থাকতে পারে না। কেউ কাউকে ছেড়ে চলে যায় না। তিন বন্ধু এক সাথেই থাকে সব সময়। একই ক্লাসে, একই স্কুলে, একই কলেজে এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছে। চাকরীও একই সাথে করেছে। বিয়ে করে একই এপার্টমেন্টে উঠেছে। তিন মালুর পরিবারের মধ্যেও খুব আন্তরিকতা। ওরা সবাই ঠিক করে রেখেছে জীবনের প্রতিটা ক্ষন এক সাথেই কাটিয়ে দেবে। এমনকি তারা তাদের কথা রেখেছে। সব সময়ই তিন মালু খুব ঘনিষ্ট বন্ধু হিসেবে তাদের জীবন কাটিয়ে দিয়েছে।

কিন্তু তারা সপ্তাহের একটা দিন কিছুটা সময় পরস্পরের থেকে বিচ্ছিন্ন থেকেছে। একজন মালু গিয়েছে চার্চে, আরেকজন মালু গিয়েছে মন্দিরে এবং তিন নাম্বার মালু গেছে মসজিদে।
তা ছাড়া সব কিছুতেই ছিল তিন জন ভালো বন্ধু, ভালো সাথি এবং ভেদাভেদহীন তিনজন মানুষ।

সোমবার, ৯ মার্চ, ২০১৫

মানুষে মানুষে বিভাজন কোন অতিক্ষমতাবাণ কেউ তৈরী করে দেয়নি। মানুষে মানুষে বিভেদ মানুষ নিজেই তৈরী করেছে।


আস্তিকরা জ্ঞান বিজ্ঞানে এতো পিছিয়ে কেন?

দুই বন্ধু রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছিল।
প্রথম বন্ধু বললো- আচ্ছা বলতো আস্তিকরা জ্ঞান বিজ্ঞানে এতো পিছিয়ে কেন?
দ্বিতীয় বন্ধু বললো- কেন আবার তারা পড়াশুনা করে না বলে।

প্রথম বন্ধু বাধা দিয়ে বললো- না না, কথাটা তুই ঠিক বললি না! আস্তিকরাও পড়াশুনা করে।
দ্বিতীয় বন্ধু বললো- তাহলে আস্তিকরা কেন জ্ঞান বিজ্ঞানে পিছিয়ে আছে?

প্রথম বন্ধু একটু মিষ্টি হেসে বললো- কারণ তারা তাদের ধর্ম গ্রন্থকে সব চেয়ে বড় বিজ্ঞান মনে করে। চিন্তা করে দেখ, যদি আস্তিকরা দেড় দুই হাজার বছর আগের স্বাধারণ অজ্ঞ মানুষের লেখা গ্রন্থকে সব চেয়ে বড় জ্ঞান মনে করে, জ্ঞান বিজ্ঞানকে অবজ্ঞা করে, তবে তারাতো এমনিতেই পিছিয়ে যাবে। মানুষ কত নতুন নতুন জ্ঞান নিয়ে গবেষণা করছে, তারা সৌর জগত ছাড়িয়ে বিশ্বজগত, এমনকি মাল্টি বিশ্বজগতের দিকে হাত বাড়িয়েছে, আর আস্তিকরা কিনা পড়ে আছে সেই প্রাচীনকালের কিছু অতি স্বাধারণ বই নিয়ে। তারা জ্ঞান বিজ্ঞানে পিছিয়ে থাকবে নাতো কে থাকবে?

সোমবার, ২ মার্চ, ২০১৫

কেন পৃথিবিতে আস্তিক বেশি ?



বাচ্চা- মা তুমি নাস্তিককে এত ভয় পাও কেন?
আস্তিক মা- কারন সে নাস্তিক, সে শয়্তান

বাচ্চা - কিন্তু আম্মু সেতো মানুষ
আস্তিক মা- সে মানুষ হলেও সে আসলে শয়্তান

বাচ্চা- কিন্তু আম্মু, সেতো আমাকে খুব আদর করে, সেতো খুব ভাল!
আস্তিক মা- খবর দার আর তার সাথে মিশবে না !

বাচ্চা- মিশলে কি হবে?
আস্তিক মা- তাহলে সে তোমাকেও শয়্তান বানিয়ে দেবে

বাচ্চা- কিন্তু মা আমিতো মানুষ আমাকে কিভাবে শয়্তান বানাবে?
আস্তিক মা- আর যদি ওকে নিয়ে এক টা কথাও বল তবে থাপ্পর খাবে

বাচ্চা ভয়ে আর কোন প্রশ্ন করলো না এভাবেই বাচ্চারা প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকে আর অন্ধআনুগত্ত করা শিখে