Translate

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

রবিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০১৫

ধর্ম বিলুপ্তির পথে।

পৃথিবীতে যেহেতু অনেকগুলো ধর্ম পরস্পরে সংঘর্ষে লিপ্ত এবং কোন ধর্মই সত্যি নয় তাই এটা সহজেই অনুমান করা যায় যে ধর্ম অচিরেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে। প্রতিযোগিতায় সব সময়ই শক্তিশালীরা টিকে যায় আর দুর্বলরা বিলুপ্ত হয়। যেহেতু ধর্ম মিথ্যা এবং বিজ্ঞান সথ্য তাই ধর্মের মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। ধর্ম বিলুপ্তির পথে।

শনিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৫

অহংকার করতে চাইলে নারীর অহংকার করার অধিকার রয়েছে, পুরুষের নেই।

পুরুষ হয়ে জন্ম নিয়ে অনেকে গর্ব করে এটা ভেবে যে তারা নারীর চেয়ে বেশী সম্মানের। তারা বিশ্বাস করে সৃষ্টিকর্তা নারীকে সৃষ্টি করেছে তাদের ভুগ্য সামগ্রী হিসেবে। কারণ সৃষ্টিকর্তা প্রথমে পুরুষকে সৃষ্টি করেছে এবং পুরুষের একাকীত্ব দুর করার জন্যই নারীকে সৃষ্টি করেছে। তাদের আরও বিশ্বাস যে সৃষ্টিকর্তার মানুষ সৃষ্টির মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল পুরুষ। আর নারীকে সৃষ্টি করার একটাই কারণ পুরুষের মনরঞ্জন করা। তাই অন্ধবিশ্বাসী পুরুষরা নারীকে সব সময়ই কম মর্যাদার বলে মনে করেছে এবং নিজেদেরকে শ্রেষ্ট ভেবে মনে মনে অহংবোধ করেছে। কিন্তু বিজ্ঞান যখন জানালো যে মানুষকে সৃষ্টিকর্তা সৃষ্টি করেনি (সৃষ্টিকর্তারই কোন অস্তিত্ব নেই), মানুষ বিবর্তনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক নিয়মে এসেছে অন্যান্য প্রাণীর মতই অর্থাৎ পশু হিসেবে। আর তাই নারীকে পুরুষের জন্য সৃষ্টি করা হয়নি বরং নারী আর পুরুষ একই সাথে একই মর্যাদায় এসেছে। তাই তাদের কথাকথিত পুরুষ থেকে নারীর সৃষ্টির অনুকল্পটি সম্পূর্ণরুপেই কাল্পনিক যার কোন বাস্তব ভিত্তিই নেই। আর তাই পুরুষের এটা ভেবে গর্ব করাটা শুধু মূর্খতাই যে, নারী পুরুষের জন্য বা পুরুষের মনরঞ্জনের জন্য এসেছে। প্রকৃত সত্য হলো যদি নারী পৃথিবীতে না আসতো তবে পুরুষের জন্ম হতে পারতো না। অর্থাৎ প্রকৃতির কাছে নারীই মুখ্য ভুমিকা রাখে। পুরুষ একটা সাহায্যকারী মাত্র। নারীর সাহায্যকারী। তাই পুরুষের অহংকার করাটা অর্থহীন। কেউ অহংকার করতে চাইলে সেটা নারীর অহংকার করার অধিকার রয়েছে, পুরুষের নেই।
দি.দ্র.- বিবর্তনবাদ অনুযায়ী নারী বা মেয়ে জেন্ডার না থাকলে মানুষ বিবর্তিত হতে পারতো না। যেহেতু মানুষের বিবর্তনে নারী অপরিহার্য ভুমিকা রেখেছে তাই নারীই মানব জাতির সৃষ্টিতে মুখ্য ভুমিকা রাখতে পেরেছিল। বিবর্তনের শর্ত হচ্ছে প্রাণীকে বিবর্তিত হতে হলে বংশ বৃদ্ধি করতে হবে। আর বংশবৃদ্ধির প্রক্রিয়াটিতে নারী জাতির অবদানই প্রধান।

শুক্রবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৫

আমি হয়ে উঠলাম এক অবিশ্বাসী, একজন গর্বিত নাস্তিক।

পৃথিবীর সব আস্তিকদের মত আমিও সৃষ্টিকর্তাহীন এই বিশ্বজগতে জন্মেছিলাম। জন্মের সময় আমি সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করিনি। কারণ আমার মধ্যে তখন কোন বিশ্বাসই তৈরী হয়নি। আমার বিশ্বাস করার শক্তি তৈরী হবার আগেই আমার বাবা-মা আমাকে তাদের ধর্ম চাপিয়ে দিয়েছিল। আমিও পৃথিবীর সব আস্তিকদের মতো আমার ধর্ম বেছে নিতে পারিনি। সব আস্তিকের মতই আমি আমার বাবা মার ধর্ম কে অন্ধের মত বিশ্বাস করে চলেছিলাম। কিন্তু হঠাৎ আমার ভিতরের যৌক্তিকতা মাথা চারা দিয়ে উঠলো। আমি অন্ধবিশ্বাসের ধর্ম থেকে বেড়িয়ে এসে বাস্তবতার সম্মক্ষিন হলাম। বিশ্বজগতের প্রকৃত সত্য জানলাম আর আমার মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়া সব অন্ধবিশ্বাস এবং কুসংস্কারকে ছুড়ে ফেলে দিলাম। আমি হয়ে উঠলাম সত্য বিশ্বাসী মানুষ। কাল্পনিক সব অন্ধবিশ্বাস এবং কুসংস্কার থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিলাম। আমি হয়ে উঠলাম এক অবিশ্বাসী, একজন গর্বিত নাস্তিক।

বুধবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৫

অর্থহীন প্রার্থনার টাকা এবং সময় মানব কল্যাণে লাগানোর নাস্তিকীয় আহবান।

প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ সব মিলিয়ে হাজার হাজার ঘন্টা প্রার্থনার পিছনে ব্যয় করে এবং লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে। কিন্তু এত এত সময় এবং টাকা খরচ করেও মানুষের কোন উপকারেই লাগে না। যেহেতু প্রার্থনা কোন ফল দেয় না তাই এই সমস্ত সময় এবং টাকা পুরোটাই অপচয় হয়। অথচ এই সময় এবং টাকা দিয়ে মানব কল্যাণকর কাজে ব্যয় করা যেতো। কিন্তু তবুও মানুষ এতো অপচয়টা মানব কল্যাণে না লাগিয়ে পরকালের কাল্পনিক সুখের আশায় শুধু নিজেদের স্বর্গের সুখের পেছনে ব্যয় করে।
ধর্ম যাই বলুক না কেন এই অপচয়টা কখনই কোন ভালো কাজ হতে পারে না। প্রার্থনা যেহেতু ফলহীন একটি অর্থহীন কাজ তাই সবার উচিত কাল্পনিক পরকালের নিজেদের সুখের কথা না চিন্তা করে মানব কল্যাণকর কাজে ব্যায় করে। এতেই প্রকৃত মঙ্গল হবে, ব্যক্তি এবং সম্পূর্ণ মানব জাতির।

মঙ্গলবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৫

বিশ্বজগতের ব্যাখ্যায় সৃষ্টিকর্তার আমদানী একটি অর্থহীন প্রকৃয়া মাত্র।

আস্তিকদের একটি অদ্ভুত দ্বাবী যে সৃষ্টিকর্তা যদিও সব কিছু সৃষ্টি করেছেন কারণ কোন সৃষ্টিকর্তা ছাড়া কোন কিছুই সৃষ্টি হতে পারে না কিন্তু সৃৃষ্টিকর্তার কোন সৃষ্টি কর্তার দরকার নেই। সে কোন সৃষ্টি কর্তা ছাড়াই সৃষ্টিশীল থাকতে পারে।
যদি যুক্তিবাদীরা প্রশ্ন তুলে যে, সৃষ্টিকর্তা কোন সৃষ্টিকর্তা ছাড়া সৃষ্টি হতে পারলে প্রকৃতি কেন সৃষ্টিকর্তা লাগবে। যেটা সৃষ্টি কর্তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সেটা প্রকৃতির ক্ষেত্রে হতে দোষ কি?
আস্তিকরা এই প্রশ্নটির কোন যুক্তিযুক্ত উত্তর দিতে পারে না। ত্যানাপ্যাচানো অপযুক্তি হাজির করে বলে, সৃষ্টিকর্তার কোন সৃষ্টিকর্তা থাকবে নে কারণ সে সৃষ্টিকর্তা। আর তাই তার কোন সৃষ্টিকর্তার দরকার পড়ে না।
যদি তাই হয়ে থাকে তবে শুধু সৃষ্টিকর্তার মতো অদ্ভুত রহস্যের আমদানী করার প্রয়োজনটা কি? সৃষ্টিকর্তা দিয়ে যদি বিশ্বজগতকে ব্যাখ্যা করা নাই যায় তবে বিশ্বজগতকে ব্যাখ্যায় কেন সৃষ্টিকর্তার মতো অদ্ভুত রহস্যের আমদানী করা যার ফলে রহস্য আরো বেড়ে যায়।
বিজ্ঞান দিয়েই তো ধর্মের চেয়ে ভালো ব্যাখ্যা করা যায় বিশ্বজগতের।
তবে সৃষ্টিকর্তা কি একটি বাড়তি (সম্ভবত ফাল্তু) অনুকল্প (হাইপোথিসিস্) নয়?

সোমবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৫

আস্তিক এবং নাস্তিকের পার্থক্য।



আস্তিক- আপনি কোন কিছুকেই বিশ্বাস করেন না; ভূত-প্রেত বিশ্বাস করেন না, ফেরেশতা শয়তান বিশ্বাস করেন না, অলৌকিকতা বিশ্বাস করেন না এমনকি ঈশ্বরকেও বিশ্বাস করেন না। কিন্তু আমরা আস্তিকরা খুব ভালো করেই জানি যে ঈশ্বর আছেন। আমরা প্রতিনীয়ত ঈশ্বরের অস্তিত্ব উপলব্ধি করি চারপাশের পরিবেশকে পর্যবেক্ষন করে আমরা অনুধাবন করতে পারি যে ঈশ্বর বলে কেউ একজন আছেন। আমরা ঈশ্বরকে উপলব্ধি করি প্রতিনিয়ত। তাহলে আপনি কি বলবেন, আমরা কেন আমাদের অনুভব এবং উপলব্ধিকে অবিশ্বাস করবো? আপনি কি আপনার অনুভব এবং উপলব্ধিকে অবিশ্বাস করবেন?

নাস্তিক- এখানেই আমাদের আর আপনাদের মধ্যে পার্থক্য। আপনারা আপনাদের উপলব্ধি ও অনুভবকে বিশ্বাস করেন। কিন্তু আমরা আমাদের অনুভুতি এ উপলব্ধিকে বিশ্বাসতো করিই না উপরন্তু আমরা আমাদের পর্যবেক্ষণকেও বিশ্বাস করি না যদি সেটা বাস্তবতার বিরোদ্ধে যায়। আমরা জানি ব্যক্তিগত উপলব্ধি, অনুভুতি এবং পর্যবেক্ষনও মিথ্যা হতে পারে। মানুষ নিজে ভুল দেখতে, শুনতে বা উপলব্ধি করতে পারে। এটা স্বাভাবিক ব্যাপার। তাই ব্যাক্তিগত উপলব্ধি, অনুভুতি এবং পর্যবেক্ষনকেও বিশ্বাস করা উচিত নয় যদি সেটা বাস্তবতার বিরোদ্ধে যায়। তবে যদি সেটা ব্যক্তি পর্যায় পার যদি সামষ্টিক পর্যায়ে যায় এবং সেটার বাস্তব প্রমাণ পাওয়া যায় সেটাতেই আমরা বিশ্বাস স্থাপন করি। আর তাই ব্যক্তিগত উপলব্ধি, অনুভুতি বা পর্যবেক্ষনের কোন মুল্য নেই বাস্তব পৃথিবীতে। উপলব্ধি, অনুভুতি এমনকি পর্যবেক্ষনও আমাদেরকে ধোকা দিতে পারে। তাই ব্যক্তিগত অনুভব, উপলব্ধিকে বা পর্যবেক্ষনকেও অন্ধের মত বিশ্বাস করা উচিত নয়।


রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৫

আমার কোন অস্তিত্বশীল সৃষ্টিকর্তা নেই। তাই (কাল্পনিক) কোন সৃষ্টিকর্তার আদেশ আমাকে মানতে হয় না।

আমার গুরুজনরা আছে এবং আমার বস্ (বড় কর্মকর্তা) আছে। আমাকে তাদেরকে সম্মান করে চলতে হয় এবং তাদের আদেশ মেনে চলতে হয়। কিন্তু আমার কোন অস্তিত্বশীল সৃষ্টিকর্তা নেই। তাই (কাল্পনিক) কোন সৃষ্টিকর্তার আদেশ আমাকে মানতে হয় না।

শনিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৫

তুমি কি বিশ্বাস করো!




মুসলিম - তুমি কি বিশ্বাস করো কুরআন সত্য?
আমি নাস্তিক- হ্যা করি।
খ্রিস্টান- তুমি কি বিশ্বাস করো বাইবেল সত্য?
আমি নাস্তিক- হ্যা করি।
হিন্দু- তুমি কি বিশ্বাস করো বেদ সত্য?
আমি নাস্তিক- হ্যা করি।
উপস্থাপক - আপনি সবগুলো ধর্মগ্রন্থকে সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত সত্য বলে বিশ্বাস করেন?
আমি নাস্তিক - না না না! আমি কখন বললাম আমি ধর্মগ্রন্থগুলোকে সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত সত্য বলে বিশ্বাস করি? আমি শুধু বলেছি যে আমি কুরআন, বাইবেল, বেদ এগুলোর অস্তিত্ব আছে এই কথাটি বিশ্বাস করি। এগুলো কিছু প্রাচীণ গ্রন্থ এটা আমি জানি এবং বিশ্বাস করি। কিন্তু আমি এটা বিশ্বাস করি না যে এগুলো সৃষ্টিকর্তা নামক কোন এক কাল্পনিক চরিত্রের রচনা করা বই। বরং আমি বিশ্বাস করি কুরআন, বাইবেল, বেদ এগুলো কিছু প্রাচীণ মানুষের লেখা বই যার বাস্তব অস্তিত্ব আছে। কিন্তু এই বইগুলোর কথাগুলো সঠিক নয় এবং এগুলোতে প্রচুর মিথ্যে এবং ভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া আছে। আর তাই এগুলো কোন ক্রমেই কোন সৃষ্টিকর্তা নামক কাল্পনিক চরিত্রের দ্বারা রচিত হতে পারে না।

শুক্রবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৫

মানুষ যুক্তিবাদী হয়ে জন্ম নিলেও কেন অন্ধবিশ্বাসী থেকে যায়?

মানুষ যদি যুক্তিবাদী না হয়ে শুধুমাত্র অন্ধবিশ্বাসী হতো তবে বাজার থেকে মাছ কেনার সময় অবিশ্বাসী দৃষ্টিতে সেগুলোকে পরীক্ষা করতো না। কিন্তু মানুষের একটা সমস্যা হলো সে বাস্তব জীবন ধারায় যু্ক্তিবাদী হলেও বাপ-দাদার ধর্মের ব্যাপারে সম্পূর্ণ অন্ধবিশ্বাসীর মতো আচরণ করে। আর এজন্যই মানুষ যুক্তিবাদী হয়ে জন্ম নিলেও তার বাপ-দাদার ধর্মের ক্ষেত্রে সারা জীবন অন্ধবিশ্বাসী থাকে। ফলে তারা কুসংস্কার এবং বাস্তবতার সঠিক পার্থক্য নির্ণয় করতে পারে না।

বৃহস্পতিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৫

কোন ঈশ্বস নেই মানুষকে রক্ষা করার মতো

অসহায় হয়ে জন্ম নেওয়া মানুষ শৈশবেই যখন সে মা-বাবার দয়া ছাড়া চলতে পারে না, বড় হয়ে সে ধারণাই করে নেয় যে কেউ একজন তার মা-বাবার মতো তাকে সব সময় রক্ষা করবে। আর সেই হচ্ছে ঈশ্বর। আর এভাবেই মানুষ তার অবচেতন মনে একজন ঈশ্বরের ধারণা বহন করে চলে। কিন্তু মানুষ কি কখনও বাস্তবতার নিরিখে বুঝতে পারবে যে মা বাবার মতো কেই তার জীবনে এসে তাকে রক্ষা করে না? সে সারাটি জীবন অসহায়ই থাকে? কারণ কোন ঈশ্বস নেই তাকে রক্ষা করার মতো।